1. admin@banglarakash.com : admin :
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আফগানিস্তান সিরিজের জন্য ১৫ সদস্যের যুব দল ঘোষণা বিসিবির ফিলিস্তিনিদের জলপাই বাগান ও ঐতিহ্য দখল করছে ইসরায়েলিরা আবরার ফাহাদের পরিবারের দীর্ঘ সাত বছর পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ: খুনিদের বিচার ও বিভিন্ন দাবি উত্থাপন চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২৯৪ জনে দাঁড়াল, বাড়ছে রোগীর চাপ গাইবান্ধায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণে বাধা দেওয়ায় মুয়াজ্জিনকে হত্যা: থানায় মামলা দায়ের সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযান: বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার আশুলিয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, ছাদ থেকে বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার নেপালে প্রলয়ংকারী বন্যা: ৪০ দিন পর উদ্ধার অভিযান স্থগিত, নিখোঁজ ৫২৮৫ চলে গেলেন বলিউডের শক্তিমান অভিনেতা নানা পাটেকর মেসির আন্তর্জাতিক বিদায়: রোনালদো-নেইমারের আবেগঘন বার্তা

আবরার ফাহাদের পরিবারের দীর্ঘ সাত বছর পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ: খুনিদের বিচার ও বিভিন্ন দাবি উত্থাপন

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৮ Time View
ছবিঃ সংগৃহিত

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারানো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর, ২০২৬) বিকেল পাঁচটার দিকে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ এবং তাঁদের একজন মামা ও একজন চাচা উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।

সাক্ষাতের শুরুতেই আবরার ফাহাদের বাবা তার সন্তান হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করে চূড়ান্ত রায় কার্যকর করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সদয় সহযোগিতা কামনা করেন। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করে জানান যে মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। আদালত সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন, তবে সরকারের পক্ষ থেকে আবরারের পরিবারকে ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে সর্বাত্মক ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলে তিনি দৃঢ় আশ্বাস দেন।

এছাড়া কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর ওপর একটি নতুন সেতু নির্মাণের জোরালো দাবি জানান আবরার ফাহাদের বাবা। তিনি উল্লেখ করেন যে, ওই এলাকার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার করেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই আবেদন পৌঁছানোর পর তিনি সেতুটি দ্রুত নির্মাণের ইতিবাচক আশ্বাস দেন এবং নবনির্মিত এই সেতুটি শহীদ আবরার ফাহাদের নামে নামকরণের প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি, আবরার ফাহাদের কবর পাকাকরণ এবং এর পার্শ্ববর্তী মসজিদের অসমাপ্ত নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চাইলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সেই মসজিদটির নির্মাণকাজ অবিলম্বে শেষ করার জোরালো নির্দেশনা প্রদান করেন।

সাক্ষাতের একপর্যায়ে আবরারের বাবা তার ছেলের হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনেন। তিনি আক্ষেপ করে জানান যে, এই মামলার সাজাপ্রাপ্ত একজন আসামি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগار থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর তাঁদের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা সেসব পলাতক আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এ সময় অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, আর কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে সন্তানের লাশের মিছিলে খালি না হয়। তিনি আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘দেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসের ছেলেমেয়েরাই আমার মতো কোনো না কোনো মায়ের সন্তান। আমি বিনীতভাবে চাই, কোনো শিক্ষাঙ্গনেই যেন আর কখনো অতীতের সেই ভীতিকর ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরে না আসে। আর কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে শূন্য না হয়।’

পরিবারের পক্ষ থেকে আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীকে বুয়েট ক্যাম্পাস পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে তিনি বুয়েট ক্যাম্পাসে আবরার ফাহাদের স্মরণে একটি নতুন হল নির্মাণের দাবি উত্থাপন করেন। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তৎক্ষণাৎ শিক্ষা সচিবের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। পাশাপাশি, দেশের নতুন প্রজন্মকে আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস ও সত্য জানাতে স্কুল-কলেজের পাঠ্যবইয়ে এই ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানান ফাইয়াজ।

আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীকে আরও জানান যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের একটি সরকারি তালিকা ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আবরার ফাহাদের মতো বিগত বছরগুলোতে যারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে নির্মম হত্যার শিকার হয়েছেন, তাদেরও একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রণয়নের দাবি জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, এ-সংক্রান্ত একটি কল্যাণমুখী প্রকল্প ইতিমধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তা নিয়ে কাজ চলছে।

উক্ত সৌজন্য সাক্ষাৎকালে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, আজ থেকে ঠিক সাত বছর আগে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে তৎকালীন ছাত্রলীগের ক্যাডাররা নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। নিহত আবরারের পৈতৃক নিবাস কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের আগের দিন অর্থাৎ ৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তৎকালীন সরকারের ভারত সফরকালে সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের সমালোচনা করে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন আবরার। মোংলা বন্দর ব্যবহার, ফেনী নদীর পানি এবং গ্যাস রপ্তানি নিয়ে ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে তিনি জনসমক্ষে যৌক্তিক প্রশ্ন তুলেছিলেন।

পরের দিন রাতে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী তাঁকে ধরে শেরেবাংলা হলের কক্ষে নিয়ে ওই ফেসবুক পোস্টের অজুহাতে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ ও পৈশাচিক নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে তিনি মারাত্মকভাবে অচেতন হয়ে পড়লে ঘাতকরা তাঁর দেহ হলের সিঁড়ির পাশে ফেলে রেখে যায়। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে অতিরিক্ত শারীরিক আঘাতের ফলে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

এই দেশ কাঁপানো হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বুয়েটসহ গোটা দেশের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-জনতা তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করাসহ ঐতিহাসিক ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন। ঘটনার পর দিন ৭ অক্টোবর নিহত আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তী সময়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) নিবিড় তদন্ত শেষে মোট ২৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলার চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আদালত ২০ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। পরবর্তীতে বিচারিক আদালতের সেই রায় বহাল রেখে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্টও ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন।

বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ৯ জন হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেছেন এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামিও লিভ টু আপিল দাখিল করেছেন। বর্তমানে এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাটি সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। সাক্ষাৎকার শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বের হয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 LatestNews
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT