দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই ভাতিজার লাঠির আঘাতে জাহিদুল বিশ্বাস (৪৬) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের ডুমাইন বিশ্বাসপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত জাহিদুল বিশ্বাস ওই গ্রামের বদিয়ার বিশ্বাসের ছেলে। তিনি তিন কন্যাসন্তানের জনক ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ:
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বদিয়ার বিশ্বাসের তিন ছেলে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া মাত্র আট শতাংশ জমিতে আলাদা ঘর তুলে বসবাস করে আসছেন। এই সামান্য জায়গার দখল নিয়ে ভাইদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও প্রায়ই ঝগড়াঝাটি চলত।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইলিয়াজ হোসেন জানান, ঘটনার দিন সকালে জাহিদুলের বড় ভাই আমুদি বিশ্বাসের দুই ছেলে শাকিল বিশ্বাস (২৬) ও সাইমন বিশ্বাস (২৩) অতর্কিতভাবে কাঠের লাঠি দিয়ে জাহিদুলের মাথায় ও শরীরে উপর্যুপরি আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তার স্ত্রী ও প্রতিবেশীরা তাকে দ্রুত মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পারিবারিক বিরোধ ও স্থানীয়দের বক্তব্য:
নিহত জাহিদুল বিশ্বাসের চাচাতো ভাই টিপু বিশ্বাস জানান, মাত্র আট শতাংশ বাড়ির জমি নিয়ে ভাইদের মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব ছিল। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সালিশ-দরবার করেও সমাধান করা যায়নি। তিনি আরও জানান, জাহিদুলের কোনো ছেলেসন্তান না থাকায় অভিযুক্ত ভাতিজারা প্রায়ই তাকে উত্যক্ত ও মারধর করত। ঘটনার সময় সাইমন ও শাকিল লাঠি দিয়ে আঘাত করতে করতে বলে, ‘তোর তো কোনো ছেলে নাই, তোকে মারলে ঠেকায় কে?’ একপর্যায়ে জাহিদুল বমি করে দিলেও মারধর থামায়নি তারা।
পুলিশের বক্তব্য:
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মধুখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মারুফ হোসেন জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা সবাই পালিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। নিহতের মরদেহ বর্তমানে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।