দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
হাসপাতাল নাকি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড—ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল চত্বরে প্রবেশ করলেই এমন এক বিশৃঙ্খল দৃশ্য চোখে পড়ে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের সামনের ফাঁকা জায়গাগুলো এখন প্রতিদিন দখল করে রাখছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স। এর ফলে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ এবং জরুরি রোগীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
গত সোমবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের নতুন ও পুরোনো উভয় ভবনের নিচের অংশসহ প্রধান প্রবেশপথের বড় একটি এলাকা নানা ধরনের যানবাহনে পূর্ণ হয়ে আছে। অনেক চালকই দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের যাত্রী হিসেবে পাওয়ার আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাসপাতাল চত্বরেই গাড়ি পার্ক করে রাখেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয় জরুরি বিভাগের সামনে। সংকটাপন্ন কোনো রোগীকে নিয়ে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে গেলে পথ আটকে থাকা এসব যানবাহনের কারণে তীব্র জটের সৃষ্টি হয়। জরুরি মুহূর্তে সময় যেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে পথ আটকে থাকায় রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মারাত্মক বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। অনেক সময় স্বজনদের বাধ্য হয়ে রোগীকে কোলে তুলে কিংবা স্ট্রেচারে করে ভিড় ঠেলে ভেতরে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
এই অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের ভিড়ের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে তীব্র শব্দদূষণ। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা অটোরিকশা ও অ্যাম্বুলেন্সের হর্ন এবং চালকদের উচ্চস্বরে ডাকাডাকি ও চেঁচামেচিতে হাসপাতালের স্বাভাবিক শান্ত পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ষাটোর্ধ্ব রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনি ভর্তি হলেও অনবরত হর্ন ও ডাকাডাকির কারণে রাতে একটু শান্তিতে ঘুমানো বা বিশ্রাম নেওয়ার উপায় নেই। এই অতিরিক্ত হর্নের শব্দে অনেক সময় হৃদরোগী ও শিশুদের শারীরিক অস্বস্তি আরও বেড়ে যাচ্ছে।
হাসপাতাল চত্বরে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা জানান, নির্দিষ্ট জায়গায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও চালকেরা রোগীদের পাওয়ার আশায় মূল ভবনের সামনে এসে ভিড় জমান। তাঁদের সরাতে গেলে অনেক সময় বাকবিতণ্ডায় জড়াতে হয়। সীমিত জনবল নিয়ে নিয়মিতভাবে এতগুলো যানবাহন সামাল দেওয়া তাঁদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।
সার্বিক বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ফোনে ও মেসেজে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মানস কৃষ্ণ কুন্ডু জানান, আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মাসিক সভাগুলোতে তাঁরা বিষয়টি নিয়মিত তুলে ধরেন এবং মাঝে মাঝে কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপও নেওয়া হয়। হাসপাতাল চত্বরে নতুন করে এই ইজিবাইক ও অন্যান্য যানবাহনের ভিড় তৈরি হওয়ায় তাঁরা দ্রুতই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দেন।
বর্তমানে ভুক্তভোগী রোগী ও তাঁদের স্বজনরা অবিলম্বে হাসপাতাল চত্বরকে অবৈধ পার্কিংমুক্ত করা এবং জরুরি বিভাগের প্রবেশপথে সার্বক্ষণিক সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।