দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নাম ও সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন করে নতুন বাহিনী গঠন করা হলেও বর্তমান সদস্যদের বিরুদ্ধে চলমান বিচারপ্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে র্যাব। বাহিনীটির দাবি, আইনগত কোনো শূন্যতা তৈরি না হওয়ায় অপরাধে জড়িত সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচার কার্যক্রম চলতে থাকবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, র্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) গঠনের যে প্রস্তাবিত খসড়া আইন তৈরি হয়েছে, তার শেষাংশে চলমান বিচারপ্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বাহিনীর সাংগঠনিক পরিচয় পরিবর্তন হলেও কোনো বিচারপ্রক্রিয়া বন্ধ হওয়ার সুযোগ নেই।
প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোতে বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব, জবাবদিহি ও শাস্তির বিধান নতুনভাবে নির্ধারণের কথা রয়েছে। বর্তমানে খসড়া আইনটি জনসাধারণের মতামতের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরায় ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা, তুরাগে চাঁদাবাজির অভিযোগে ১২ জনকে আটক এবং গত এক মাসে অস্ত্র উদ্ধারের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়।
র্যাব জানায়, গত ৯ আগস্ট বিমানবন্দর এলাকার ‘ডিএল ফিলিং স্টেশন’ থেকে ব্যাংকে টাকা নেওয়ার পথে একটি কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটে। তদন্তে বেরিয়ে আসে, কারাগারে থাকা ডাকাত হাকিম জামিনে বের হয়ে কাউসার ও জলিল মোল্লার সঙ্গে মিলে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেছিল।
পরবর্তীতে ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে হাকিম, কাউসার ও জলিল মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। হাকিমের কাছ থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, গুলি, হ্যান্ডকাফ ও একটি ওয়্যারলেস সেট উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছিনতাই হওয়া টাকার মধ্যে ৪৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) তুরাগের কামারপাড়া এলাকার একটি ফলের আড়তে অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের ১২ সদস্যকে আটক করা হয়। ফলবাহী যানবাহন থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের অভিযোগে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়েছে বলে জানায় র্যাব।
আটকদের কাছ থেকে চাঁদা হিসেবে আদায় করা ১১ হাজার ২২০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আহাদ শেখ, মুন্না শেখ ও আসিফ চক্রটির নেতৃত্বে ছিল।
ব্রিফিংয়ে র্যাবের সাম্প্রতিক অভিযান ও অস্ত্র উদ্ধারের পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়। ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, গত এক মাসে দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে ৬৫টি দেশীয় ও ৩৯টি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ মোট ১০৪টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
র্যাবের কাঠামো পরিবর্তন করে নতুন বাহিনী গঠনের প্রক্রিয়া চললেও অপরাধে জড়িত সদস্যদের বিরুদ্ধে চলমান আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে—প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়টিই স্পষ্ট করেছে বাহিনীটি।