দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে দিল্লির লালকেল্লা থেকে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যবহৃত ‘দিমাগি নকশাল’ (মানসিক নকশাল) শব্দটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘দিমাগি নকশাল জনতা পার্টি’ নামে একটি রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন। অ্যাকাউন্টের আত্মপ্রকাশের একদিনের মধ্যেই এর অনুসারী সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়ে যায়।
গত ১৫ আগস্টের ভাষণে নরেন্দ্র মোদি অভিযোগ করেন, সশস্ত্র মাওবাদ দমিত হলেও মাওবাদী চিন্তাধারার কিছু মানুষ বা ‘দিমাগি নকশাল’রা সমাজে সক্রিয় থেকে তরুণদের বিভ্রান্ত করছে। তাদের সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান জানান তিনি। এর পরপরই মোদির বক্তব্যকে প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ডিজিটাল মাধ্যমে সোচ্চার হয় একদল তরুণ। নিজেদের রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও প্রতিবাদের মঞ্চ হিসেবে তুলে ধরে খোলা এই অ্যাকাউন্টে সরকারের নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে রসাত্মক পোস্ট ও ট্রোল শেয়ার করা হতে থাকে।
ইনস্টাগ্রামে অ্যাকাউন্ট চালুর পর সোমবার সকালে সাময়িকভাবে পেজটি উধাও হয়ে গেলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। পরবর্তীতে ফিরে এসে পেজ চালনাকারীরা অভিযোগ করেন, তাদের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে সাইবার হামলা চালানো হয়েছিল। ‘ভাবুন, গবেষণা করুন, প্রতিরোধ করুন’—এই মূলমন্ত্র নিয়ে এগিয়ে যাওয়া দলটি নিজেদের ভগৎ সিংহের আদর্শের অনুসারী হিসেবে দাবি করছে। তাদের পেজের বায়োতে প্রতিষ্ঠাতাকে ‘দিমাগি ভারতীয়’ এবং সহপ্রতিষ্ঠাতাকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘৫৬ ইঞ্চি’র ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইনস্টাগ্রামের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সেও (সাবেক টুইটার) তাদের সক্রিয়তা দেখা গেছে। কৌতুকশিল্পী কুণাল কামরা, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি, সাংবাদিক রবীশ কুমার ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের মতো পরিচিত ব্যক্তিদের তারা অনুসরণ করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক উপায়ে রাজনৈতিক প্রতিবাদ জানানোর যে ট্রেন্ড তৈরি হয়েছে, এই ঘটনা তারই এক নতুন দৃষ্টান্ত।