দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো ঘোষণা না হলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার দেবগ্রামে মেয়র পদে গ্রামের একক প্রার্থী নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হলো এক অভিনব ‘প্রাইমারি ভোট’। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় গ্রামের নিজস্ব উদ্যোগে এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
ভোটে বেলজিয়াম প্রবাসী রুহুল আমিন খান সুমন (ছাতা প্রতীক) ৭৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়ে গ্রামের একক মেয়র প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. ফয়েজ আহমেদ (ফুটবল প্রতীক) পেয়েছেন ৫১৫ ভোট এবং শেখ আমজাদ হোসেন (মোরগ প্রতীক) পান ২২৩ ভোট। গ্রামে তিন সহস্রাধিক পুরুষ ভোটার থাকলেও এতে ভোট দেন ১,৪৭৪ জন।
মূলত আখাউড়া পৌরসভার অন্যতম বড় এই গ্রাম থেকে একাধিক প্রার্থী হয়ে ভোট যেন ভাগ হয়ে না যায় এবং বিজয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়, সেজন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। কাগজে-কলমে আয়োজনটির নাম দেওয়া হয় ‘দেবগ্রাম আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচন-২০২৬’। এই বিজয়ী প্রার্থীকেই পরবর্তীতে পৌরসভা নির্বাচনে গ্রামবাসীর সমর্থন নিয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য পাঠানো হবে।
দেবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আয়োজিত এই নির্বাচনে সাধারণ জাতীয় নির্বাচনের মতোই সকল নিয়ম মানা হয়— তফসিল ঘোষণা, আচরণবিধি তৈরি, গোপন কক্ষ, অমোচনীয় কালি, ব্যালট পেপার, বুথ ও প্রিজাইডিং অফিসার ছিল। এমনকি কেন্দ্রের নিরাপত্তায় মোতায়েন ছিলেন পুলিশ সদস্যরাও।
ভোটের পর কেউ যেন সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ না হতে পারেন, সে জন্য নেওয়া হয়েছে কড়া পদক্ষেপ। প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জমা রাখা হয়; যার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা ছিল নির্বাচন পরিচালনা খরচ (অফেরতযোগ্য) এবং ৫ লাখ টাকা ফেরতযোগ্য জামানত। গ্রামের মনোনয়ন অমান্য করে কেউ প্রার্থী হলে জামানতের ৫ লাখ টাকা বাজেয়াপ্ত করে গ্রামের উন্নয়নে খরচ করা হবে।