দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
ইতালির রোম বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ২৬০ জন যাত্রী। গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ২০ মিনিটে নিয়মিত জ্বালানি নেওয়ার সময় কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়লে উড়োজাহাজটি গ্রাউন্ডেড করা হয়। প্রায় ৮ ঘণ্টা যাত্রীদের বিমানের ভেতরেই বসিয়ে রাখার পর নামিয়ে আনা হলেও তাদের জন্য উপযুক্ত থাকার ব্যবস্থা কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা না করার অভিযোগ উঠেছে।
ফ্লাইটের ২৬০ জন যাত্রীর মধ্যে অন্তত ১৭০ জন বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী। ভিসাগত জটিলতার কারণে তারা বিমানবন্দর ছেড়ে হোটেলে উঠতে পারেননি। বিমান কর্তৃপক্ষ রাতে একটি লাউঞ্জের ব্যবস্থা করলেও তা ২৬০ জন যাত্রীর ধারণক্ষমতার তুলনায় ছিল অপ্রতুল। ফলে জায়গা না পেয়ে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের অনেককে বিমানবন্দরের মেঝেতে বসেই রাত কাটাতে হয়। সময়মতো খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার পাশাপাশি শিশুদের খাবার নিয়েও সৃষ্টি হয় সংকট।
ভুক্তভোগী এক যাত্রী পরিস্থিতিকে ‘চরম বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করে জানান, দীর্ঘ সময় বোতলবন্দী রাখার পর নামিয়ে আনা হলেও তাদের সারারাত খোলা বিমানবন্দরে পার করতে হয়েছে। ডায়াবেটিস রোগী সহ অনেকে লাগেজে ওষুধ থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহার করতে পারেননি।
এদিকে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করা হলেও বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সার্বিক মানবিক দিক বিবেচনা করে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় বিমানের জরুরি ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, রোমে কারিগরি ত্রুটি মেরামতের দায়িত্বে থাকা চুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি সঠিক সময়ে যন্ত্রাংশ সরবরাহ করতে না পারায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, বিমানকে সচল করতে শনিবার দুপুরে ঢাকা থেকে একদল প্রকৌশলী রোমের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। সব ঠিক থাকলে কারিগরি কাজ শেষ করে রবিবার সকালে ফ্লাইটটি ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে সব মিলিয়ে যাত্রীদের প্রায় ৪০ ঘণ্টার মতো দীর্ঘ সময় রোম বিমানবন্দরে আটকে থাকতে হচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিমানে নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন এবং আরও দক্ষ কারিগরি দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।