দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
তেহরান ও ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা নতুন মাত্রা নিয়েছে। ইরানকে নতিস্বীকারে বাধ্য করার লক্ষ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে নতুন করে ব্যাপক অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন প্রশাসনের নির্ভরযোগ্য কর্মকর্তাদের বরাতে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, এই হামলা সপ্তাহান্তেই শুরু হতে পারে এবং তা টানা কয়েক দিন ধরে চলার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইহুদি সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল-এর দাবি অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই মার্কিন অভিযানে ইরানের প্রধান প্রধান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। তবে এই হামলায় ইসরায়েলি বাহিনী সরাসরি যুক্ত থাকবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
“নজিরবিহীন আঘাত হানা হবে”: ট্রাম্প
শুক্রবার ওয়াশিংটনে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন,
“আমরা তাদের (ইরান) ওপর নজিরবিহীন আঘাত হানব। এমন এক সময় আসবে যখন তারা নিজেরাই বলতে বাধ্য হবে যে এই পরিস্থিতি আর সামলানো সম্ভব নয়।”
ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
মার্কিন নাগরিকদের জরুরি স্থানত্যাগের পরামর্শ
পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ও অনিশ্চয়তার কথা বিবেচনা করে জেরুজালেমসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে:
সাহায্যকারী দেশগুলোকেও ছাড় দেওয়া হবে না: ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর। প্রধান মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি আঞ্চলিক দেশগুলোকে মার্কিন বাহিনীকে সহযোগিতা না করার জন্য কড়া বার্তা দিয়েছেন।
তিনি স্পষ্ট জানান, “যেসব দেশ ওয়াশিংটনকে প্রতিরক্ষার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে দেবে বা তাদের সহায়তা করবে, তারাও সমানভাবে যুদ্ধের আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
ইসরায়েলের অংশগ্রহণ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের ভিন্ন মতামত
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন শীর্ষ সংবাদমাধ্যম সম্ভাব্য এই হামলায় ইসরায়েলের ভূমিকা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছে:
উল্লেখ্য, সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বৈঠক শেষে দুই নেতাই জানান, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ইরান প্রতিরোধ নিয়ে তাদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর সামরিক সীমাবদ্ধতা ও কুয়েতে ড্রোন হামলা
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপে দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন সামরিক বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ পেন্টাগনকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছেন। তিনি জানান, অতিরিক্ত নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার না পেলে মার্কিন মূল ভূখণ্ডের নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সুরক্ষায় কাটছাঁট করতে হতে পারে। এদিকে, শনিবার কুয়েত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ড্রোন আকাশে থাকা অবস্থাতেই সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় বড় ধরণের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।