বাংলার আকাশ ডেস্ক :
ফরিদপুরে এক নাবালিকা কলেজছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে সোহেল শেখ (৩৫) নামের এক যুবককে দুটি ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, দুটি সাজাই একসঙ্গে কার্যকর হবে।
রোববার (১৬ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল শেখ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার দক্ষিণ চরনারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। ভুক্তভোগী কিশোরী বোয়ালমারী উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ওই কিশোরী বোয়ালমারীর একটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করতেন। কলেজে যাওয়া–আসার পথে সোহেল শেখ তাকে প্রায়ই উত্যক্ত করতেন। বিষয়টি পরিবার জানার পরও তিনি বিরত হননি। পরে ২০১৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সহযোগীদের নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে তাকে অপহরণ করা হয়। এরপর তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর ওই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল শেখ ছাড়াও তার ভাই রাসেল শেখ (৩২) ও সহযোগী আরিফ শেখকে (৪০) আসামি করা হয়।
মামলাটি তদন্ত করেন বোয়ালমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সানোয়ার হোসেন। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২ মার্চ তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রব্বানী জানান, অপহরণ ও ধর্ষণ—এই দুই অপরাধে পৃথক দুটি ধারায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তবে সাজা একই হওয়ায় আদালত তা একসঙ্গে ভোগ করার নির্দেশ দিয়েছেন।