সৌদি আরবের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তাঁর দেশকে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, আধুনিক পর্যটন এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরগুলোর প্রধান আকর্ষণীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বড় বৈশ্বিক স্বপ্ন লালন করেছিলেন। তবে তাঁর সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষার পথে এখন বিশাল এক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে ইয়েমেন থেকে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ছোঁড়া প্রাণঘাতী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।
এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বর্তমানে প্রতিনিয়ত সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে আঘাত হানছে। ফলে যুবরাজ যে আঞ্চলিক সংঘাত ও অশান্তি পেছনে ফেলে দেশকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন, উল্টো বাধ্য হয়ে আবার সেই পুরোনো রক্তক্ষয়ী সংঘাতের গভীরে জড়িয়ে পড়ছে রিয়াদ।
বিগত কয়েক বছরের তুলনামূলক শান্ত ও স্থিতিশীল পরিস্থিতি ভেঙে চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন করে রূপ নিয়েছে এবং গত মাসে তা আরও বিধ্বংসী আকার ধারণ করেছে। বিগত ১১ বছর ধরে সামরিক অভিযান এবং কূটনৈতিক মধ্যস্থতা—উভয় কৌশল ব্যবহার করে নিজেদের দক্ষিণ সীমান্তের এই জটিল সংঘাত নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল সৌদি আরব। সেই কৌশলের অংশ হিসেবে রিয়াদ শুরুতে ইরানের মিত্র হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়, পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে দীর্ঘ শান্তি আলোচনার পথ বেছে নেয় এবং পরিশেষে হুথিদের মূল সমর্থক দেশ ইরানের সঙ্গেও নিজেদের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় স্থাপন করে।
তবে ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এত কূটনৈতিক ও সামরিক প্রচেষ্টার পরও রিয়াদের একের পর এক ভুল হিসাব-নিকাশের কারণে ইয়েমেনের নতুন করে ছড়িয়ে পড়া এই সংঘাতের সামনে সৌদি আরব নিজেদের অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ করে ফেলেছে।
বিশেষ করে ইয়েমেনের একটি প্রতিপক্ষ সশস্ত্র উপদলকে সমর্থন দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত বছরের শেষের দিকে সুদীর্ঘকালের সুসংহত সামরিক ও রাজনৈতিক অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানে সৌদি আরব। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সংকটের মুহূর্তে পাশে পাওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সদিচ্ছা ও প্রতিশ্রুতিকে মূল্যায়নেও ভুল হিসাব করেছে রিয়াদ। পাশাপাশি ইয়েমেনের ভেতরে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন সশস্ত্র দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে গিয়েও বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে সৌদি প্রশাসনকে।