বাংলার আকাশ ডেস্ক :
সরকার নির্ধারিত দামে ধান বিক্রিতে সন্তুষ্ট নন রংপুর বিভাগের বোরো চাষিরা। ধান কাটা-মাড়াইয়ের মৌসুমে বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকার প্রতি মণ ধানের দাম ১৪৪০ টাকা নির্ধারণ করলেও মাঠপর্যায়ে ব্যাপারীরা তা ৭০০ থেকে সাড়ে ৭০০ টাকায় কিনছেন। এতে উৎপাদন খরচই উঠছে না বলে দাবি তাদের।
সরেজমিনে মাহিগঞ্জ, বোতলা, সাহেবগঞ্জ ও গংগাচড়া এলাকার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত থাকলেও কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকেই আলুর লোকসানের পর বোরো ধানেও ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
মাহিগঞ্জের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, “আলুতে লোকসানের পর ঋণ নিয়ে ধান আবাদ করেছি। এখন যে দাম পাচ্ছি, তাতে খরচও উঠবে না।” একই এলাকার শফিকুল ইসলাম জানান, সার, বীজ, সেচসহ উৎপাদন খরচ বেড়েছে, কিন্তু ধানের দাম তার তুলনায় অনেক কম।
সাহেবগঞ্জের কৃষক আজহার কবির বলেন, “সরকারের নির্ধারিত দামে ধান বিক্রি করার সুযোগ আমরা পাচ্ছি না। ব্যাপারীরা কম দামে কিনছে, এতে বড় ক্ষতি হচ্ছে।”
গংগাচড়ার কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, ধার-দেনা করে চাষ করেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।
কৃষক নেতাদের দাবি, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার কেন্দ্র বাড়ানো এবং উৎপাদন খরচের সাথে ন্যায্য মুনাফা যোগ করে দাম নির্ধারণ না করলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
রংপুর কৃষক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক পলাশ কান্তি নাগ বলেন, কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা এবং সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর দাবি জানান। একইসঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অন্যদিকে বাংলাদেশ খাদ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারা ৯২টি এলএসডি গুদামের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে মিলাররা বাজারে চাল সরবরাহ শুরু করলে ধানের দাম বাড়তে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।