বাংলার আকাশ ডেস্ক :
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বস্ত্রশিল্প খাতে করহার অপরিবর্তিত রাখায় শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, তৈরি পোশাক শিল্প ও বস্ত্রশিল্পের মধ্যে কর ব্যবধান বৃদ্ধি পেলে দেশীয় কাঁচামাল উৎপাদন নিরুৎসাহিত হবে এবং বিদেশি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে।
শিল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সুতা ও কাপড়ের বড় একটি অংশ স্থানীয় বস্ত্রকলগুলো সরবরাহ করে। বিশেষ করে নিট পোশাক খাতে অধিকাংশ কাঁচামাল দেশেই উৎপাদিত হলেও ওভেন খাতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও আমদানির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।
বস্ত্রশিল্প মালিকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই খাত বিশেষ কর সুবিধার আওতায় ছিল। তবে সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বর্তমানে সাধারণ করপোরেট করহারের আওতায় আসতে হচ্ছে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে। অন্যদিকে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প এখনও তুলনামূলক কম করহারে সুবিধা পাচ্ছে।
শিল্প মালিকদের সংগঠনের নেতারা বলছেন, একই উৎপাদন শৃঙ্খলের অংশ হওয়া সত্ত্বেও দুই খাতে ভিন্ন করহার প্রতিযোগিতায় অসামঞ্জস্য সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা ও কাপড়ের পরিবর্তে বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানির প্রবণতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রপ্তানি খাতকে শক্তিশালী রাখতে হলে কাঁচামাল সরবরাহকারী ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তারা মনে করেন, উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি সংকট এবং উচ্চ সুদহারের চাপের মধ্যে অতিরিক্ত করের বোঝা শিল্পের বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
খাতসংশ্লিষ্টরা দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে কর কাঠামো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল করনীতি নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান টিকবে এবং রপ্তানি খাতও আরও শক্তিশালী হবে।
শিল্প সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৭০০টি বস্ত্রকল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে নানা চ্যালেঞ্জের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে এবং কিছু কারখানা ইতোমধ্যে কার্যক্রম বন্ধ করেছে।