বাংলার আকাশ ডেস্ক :
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় মাদরাসা শিক্ষক মো. গোলাম রসুল মজুমদার লিটন হত্যা মামলার রহস্য দীর্ঘ দুই বছর পর উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
তদন্তে উঠে এসেছে, স্থানীয় সামাজিক বিরোধ ও সালিশে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ক্ষোভ থেকেই শিক্ষক লিটনকে হত্যা করা হয়। মামলার প্রধান আসামি সাফায়াত আলী ওরফে সাফু জিজ্ঞাসাবাদের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই সূত্র জানায়, নিহত শিক্ষক লিটন সদর দক্ষিণ উপজেলার নলকুড়ি ফোরকানিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে পাঠদান চলাকালে মাদরাসার শ্রেণিকক্ষে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আক্রমণ করা হয়। পরে স্থানীয়রা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও হত্যার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট না হওয়ায় আদালতে অধিকতর তদন্তের আবেদন করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই।
পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, পুনঃতদন্তে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন এবং পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
তদন্তে জানা যায়, বিভিন্ন পারিবারিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে স্থানীয় সালিশে শিক্ষক লিটনের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে আসামির মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ তৈরি হয়। সেই বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পিবিআই জানিয়েছে, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার ধারাবাহিকতা স্পষ্ট হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।