দেশের সড়কে প্রতিদিন গড়ে ৬৬ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটছে এবং পঙ্গুত্ব বরণ করছেন অন্তত ১০৪ জন। আপাতদৃষ্টিতে এসব কেবলই দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান মনে হলেও, প্রতিটি দুর্ঘটনার পেছনে হারিয়ে যাচ্ছে এক-একটি জীবন, নিঃস্ব হচ্ছে একেকটি পরিবার। এমনই এক করুণ বাস্তবতার শিকার চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার ওমান প্রবাসী তরুণ জাহিদুল আলম।
২৮ বছর বয়সী জাহিদুল আলম ২০২৪ সালের আগস্টে কর্মস্থল ওমান থেকে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। দেশে আসার কিছুদিন পরই, ৪ সেপ্টেম্বর এক মর্মান্তিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তাঁর হাত ও পা ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। একই সঙ্গে মুখের চোয়াল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ভেঙে যায় তিনটি দাঁত এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। দুর্ঘটনার পর প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘমেয়াদি জটিল চিকিৎসা শেষে তাঁর জীবন বাঁচানো সম্ভব হলেও পঙ্গুত্বকে এড়াতে পারেননি তিনি।
পঙ্গুত্বের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার আকুল আশায় বর্তমানে ভারতের বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন জাহিদুল। ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে দূরভাষে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “জীবনের যত কষ্টার্জিত সঞ্চয় ছিল, তার সবই চিকিৎসার পেছনে শেষ হয়ে গেছে। এ পর্যন্ত চিকিৎসায় প্রায় ৬৫ লাখ টাকা খরচ করতে হয়েছে এবং বাধ্য হয়ে প্রচুর ধারদেনা করতে হয়েছে। প্রবাসে আর ফিরে যাওয়া হয়নি, ভবিষ্যতেও হয়তো আর কখনো যাওয়া সম্ভব হবে না।” তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত তাঁর পায়ে অন্তত আটবার জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং কয়েকবার পচনও ধরেছে।
জাহিদুলের মতো সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু ও আহতদের বেশির ভাগ মানুষকেই এখন চরম দুর্বিষহ জীবন পার করতে হচ্ছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব দুর্ঘটনায় আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারীদের বড় একটি অংশই তরুণ, যুবক ও পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি। ফলে আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় কেবল একজন ব্যক্তিই পঙ্গু হচ্ছেন না, বরং পুরো পরিবার আর্থসামাজিকভাবে নিঃস্ব হয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে।
(সূত্র: প্রথম আলো)