ভারতের মধ্যপ্রদেশের গওয়ালিয়রে ঐতিহাসিক ‘শীতলা মাতা মন্দির’-এর ফটকে অনিয়ন্ত্রিত একটি ধানবোঝাই ট্রাকের ভয়াবহ ধাক্কায় অন্তত ১২ জন পুণ্যার্থী নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৯ জন।
আজ রোববার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এর আগে গতকাল শনিবার গভীর রাতে বেপরোয়া ট্রাকটি রাস্তার পাশের প্রসাদের দোকান ও সেখানে উপস্থিত ভক্তদের পিষে দিয়ে সোজা মন্দিরের প্রধান ফটকে গিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে। বিকট শব্দে ধাক্কার চোটে মন্দিরের ফটকের দেয়ালের একাংশ ধসে পড়ে এবং অনেক ভক্ত সেই ধসে পড়া ইট-পাথরের নিচে চাপা পড়েন।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চাপা পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসাধীন আহত ২৯ জনের মধ্যে পাঁচজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। নিহত ও আহতদের সকলেই গওয়ালিয়র এবং এর আশপাশের জেলার বাসিন্দা।
ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শেষে গওয়ালিয়রের পুলিশ সুপার ধর্মবীর যাদব জানান, মূলত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চালক ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
তিনি বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, দুর্গোৎসবের মহা সপ্তমী উপলক্ষে শনিবার রাতে শীতলা মাতা মন্দিরে হাজার হাজার ভক্তের ঢল নেমেছিল। উপচে পড়া ভিড়ের কারণে পুলিশ নিরাপত্তা স্বার্থে মন্দির সংলগ্ন সড়কে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে চনোর দিক থেকে আসা একটি ধানবোঝাই ট্রাককে ব্যারিকেড দিয়ে থামার নির্দেশ দেয় কর্তব্যরত পুলিশ। কিন্তু পাহাড়ি ঢালু রাস্তায় আসার পর ট্রাকটির ব্রেক বিকল হয়ে যায়। ফলে গাড়িটি গতি সামলাতে না পেরে সরাসরি ফুটপাতের দোকান ও ভিড়ের ওপর উঠে যায়।
পুলিশ আরও জানায়, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় রাস্তার পাশের পাঁচ-ছয়টি প্রসাদের দোকান চুরমার হয়ে যায় এবং সব মিলিয়ে ৪১ জন মানুষ হতাহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। গওয়ালিয়রের জেলা কালেক্টর রুচিকা চৌহান জানিয়েছেন, রেড ক্রসের বিশেষ তহবিল থেকে আহতদের জরুরি চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
(সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস)