দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
সৌদি আরবের ওপর হুথিদের অব্যাহত হামলার মুখে দেশটির নিরাপত্তায় বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি বলেছেন, হুথিরা শান্তি বাদ দিয়ে অরাজকতা ও ধ্বংসের পথ বেছে নিয়েছে, যা ইয়েমেনের সাধারণ মানুষসহ পুরো অঞ্চলকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শুরা কাউন্সিলে বাদশাহ সালমান বিন আব্দুলআজিজ আল সৌদের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রিন্স সালমান এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “সৌদির নিরাপত্তা বিনষ্টকারী যেকোনো হামলা বা হুমকির জবাব দিতে সৌদি আরব একটুও দ্বিধা করবে না।”
বক্তব্যে গত আগস্টে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’র প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ক্রাউন প্রিন্স। তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করা, উত্তেজনা ও সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষা করা এবং পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর সদিচ্ছারই প্রতিফলন হলো এই চুক্তি।
সামরিকভাবে সর্বোচ্চ প্রস্তুতির কথা জানানোর পাশাপাশি কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন প্রিন্স সালমান। তিনি উল্লেখ করেন, “উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিতে সৌদি আরব সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এর পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
এ সময় লোহিত সাগর ও বাব এল মান্দেব প্রণালীতে হুথিদের জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত হামলা এবং তা প্রতিরোধে গঠিত বহুজাতিক মেরিটাইম জোটের কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রিন্স সালমান দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, লোহিত সাগরকে কোনোভাবেই সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
উল্লেখ্য, গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত চলছে। এই সময়ে হুথিরা সৌদির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার চেষ্টা চালালে জবাবে দেশটির বিমানবাহিনীও পাল্টা বিমান হামলা চালিয়ে আসছে।