বাংলার আকাশ ডেস্ক :
ফুটবল, সাম্বা নৃত্য, আমাজন অরণ্য ও নৈসর্গিক সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত ব্রাজিল। খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশটির আরেকটি দিক হলো, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে একটি সক্রিয় মুসলিম সম্প্রদায়। সময়ের সঙ্গে ব্রাজিলে ইসলামের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হচ্ছে।
ব্রাজিলে ইসলামের ইতিহাস বেশ পুরোনো। বিভিন্ন সময়ে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মুসলিম অভিবাসীদের মাধ্যমে দেশটিতে ইসলামি সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন শহরে মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
বিভিন্ন গবেষণা ও সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিলে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কয়েক লাখ। সরকারি পরিসংখ্যান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্যের মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকলেও দেশটিতে মুসলিমদের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
ব্রাজিলে ইসলামের বিস্তারের পেছনে অভিবাসনের পাশাপাশি স্থানীয়দের আগ্রহও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইসলামিক শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে অনেক ব্রাজিলীয় ইসলাম সম্পর্কে জানছেন এবং কেউ কেউ ধর্মটি গ্রহণ করছেন।
দেশটির বড় শহরগুলোতেই মুসলিমদের বসবাস বেশি। বিশেষ করে সাও পাওলো, ফোজ দো ইগুয়াসু, কুরিতিবা, রিও ডি জেনেইরো ও রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় মুসলিমদের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ড বেশি লক্ষ্য করা যায়।
ব্রাজিলে রয়েছে বেশ কিছু ঐতিহাসিক মসজিদ। সাও পাওলোর মেসকিতা ব্রাজিল দেশটির প্রাচীনতম ইসলামিক স্থাপনাগুলোর একটি। এছাড়া ফোজ দো ইগুয়াসুর ওমর ইবনুল খাত্তাব মসজিদ এবং কুরিতিবার ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব মসজিদ স্থানীয় মুসলিমদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
এ ছাড়া ব্রাজিলের হালাল খাদ্যশিল্পও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে হালাল মাংস রপ্তানির মাধ্যমে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অবস্থান তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রাজিলে মুসলিমরা সংখ্যায় কম হলেও দেশটির বহুসাংস্কৃতিক সমাজে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে ফুটবলের এই দেশে ইসলাম ধীরে ধীরে নিজের একটি অবস্থান তৈরি করছে।