বাংলার আকাশ ডেস্ক :
দশমিনা উপজেলার চর হায়দর, লাল চর ও আগলা চর—এই তিনটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মোট আয়তন প্রায় ২ হাজার ২৯৫ একর। অভিযোগ রয়েছে, এসব এলাকায় বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রভাবশালী মহল বন দখল ও ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, বনাঞ্চলের ভেতরের খালে বাঁধ দিয়ে এবং অবৈধ জাল ব্যবহার করে মাছ ধরার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে, যার বিনিময়ে জেলেদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায় করা হচ্ছে। টাকা না দিলে মাছ ধরতে না দেওয়ার অভিযোগও করেছেন অনেকে। এতে জীবিকা সংকটে পড়েছেন স্থানীয় জেলেরা।
এছাড়া মহিষ চরানোর জন্যও টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পশুপালনকারীরা। প্রতিবাদ করলে হামলা ও মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
অভিযোগের বিষয়ে দশমিনা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কাউকে বনাঞ্চল লিজ দেওয়া হয়নি। কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এসব কার্যক্রম চালাতে পারে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে গাছ কাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী জানান, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ জাল ব্যবহার করে মাছ ধরা মৎস্য সম্পদের জন্য ক্ষতিকর এবং এটি প্রতিরোধ করা জরুরি।
অন্যদিকে উপকূলীয় বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোসা. নুরুন্নাহার বলেন, সংরক্ষিত বনভূমি লিজ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় বন শুধু পরিবেশ রক্ষাই নয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এসব বনাঞ্চলে অনিয়ম বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।