বাংলার আকাশ ডেস্ক :
বাংলাদেশের কৃষিখাতে সরকারি ব্যয়ের ধরন আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক করা গেলে উৎপাদনশীলতা, কর্মসংস্থান এবং জলবায়ু সহনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
সোমবার ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের মোট সরকারি ব্যয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কৃষিখাতে ব্যয় হলেও সেই অনুপাতে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি ও কৃষিপণ্যের বৈচিত্র্য অর্জিত হচ্ছে না। বিশেষ করে উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণে অগ্রগতি তুলনামূলকভাবে সীমিত।
বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে দেখা যায়, কৃষিখাতে সরকারি সহায়তার বড় অংশ সার ও ধান উৎপাদনকেন্দ্রিক ভর্তুকির মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। এর ফলে অপেক্ষাকৃত বড় কৃষকরা বেশি সুবিধা পেলেও ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছে সহায়তার সুফল সমানভাবে পৌঁছায় না।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সারের সঠিক ও দক্ষ ব্যবহার এখনও সীমিত। পাশাপাশি দেশের অধিকাংশ কৃষিজমিতে ধান চাষের আধিক্যের কারণে পশুপালন, মৎস্য, ফল ও সবজি খাতের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
সংস্থাটি মনে করে, মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা, আধুনিক কৃষি পরামর্শসেবা, প্রযুক্তিনির্ভর সহায়তা এবং ই-ভাউচার ব্যবস্থার মতো উদ্যোগ চালু করা গেলে কৃষি সহায়তা আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে। এতে দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছে সরকারি সুবিধা সহজে পৌঁছাবে এবং কৃষি খাতের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্বব্যাংকের মতে, কৃষিতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ভর্তুকিনির্ভর ব্যয়ের পাশাপাশি প্রযুক্তি, গবেষণা, বাজার সংযোগ এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।