বাংলার আকাশ ডেস্ক :
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে চুক্তির বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, আগামী রোববার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ খবর প্রকাশের পরই ওয়াশিংটন ও তেহরান থেকে ভিন্নধর্মী বার্তা আসতে থাকে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সম্ভাব্য সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক নৌযানের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে এবং ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ বা বিলুপ্ত করতে সম্মত হবে।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কোনো সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও নতুন পারমাণবিক আলোচনা শুরু হবে নির্দিষ্ট সময় পর। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এ অবস্থানের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, প্রকাশিত তথ্য বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং বিষয়টি স্পষ্ট করার আহ্বান জানান।
এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। তবে তিনি কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
এদিকে পুরো আলোচনায় ইসরাইলের ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সম্ভাব্য সামরিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ইসরাইলি নেতৃত্ব আলাদাভাবে পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আগাম অবগত থাকার বিষয়টি তারা অস্বীকার করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করতে পারে। অন্যদিকে ইরানপন্থী বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আলোচনার বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছানো তেহরানের কূটনৈতিক অগ্রগতির প্রতিফলন।
তবে সম্ভাব্য সমঝোতা আদৌ স্বাক্ষরিত হবে কি না এবং হলে তার শর্ত কী হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক স্পষ্টতা নেই। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন সম্ভাব্য জেনেভা বৈঠকের দিকেই নিবদ্ধ রয়েছে।