বাংলার আকাশ ডেস্ক :
সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন তথ্য পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। নিহত তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনার ডিএনএ পরীক্ষায় এবার চারজন পুরুষের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
রোববার রাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই সদর দফতরের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পিবিআই সূত্র জানায়, তনুর পোশাক থেকে পাওয়া আলামতের ডিএনএ পরীক্ষায় তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর পাশাপাশি আরও একজনের রক্তের নমুনা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সিআইডি থেকে প্রায় এক মাস আগে পিবিআইকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজনদের আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরদিন সকালে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজ সংলগ্ন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা-য় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত প্রথমে পুলিশ, পরে ডিবি ও সিআইডির হাতে গেলেও দীর্ঘদিন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। পরে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি পিবিআই সদর দফতরে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মামলার তদন্ত করছেন পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম, যিনি ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তদন্তের দায়িত্ব নেন।
এদিকে, গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান-কে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করে পিবিআই। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বর্তমানে তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
পিবিআই জানিয়েছে, হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে তনুর পোশাকে পাওয়া আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো সেই পরীক্ষার ফল পাওয়া যায়নি।