বাংলার আকাশ ডেস্ক :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থিত তিতাস গ্যাসক্ষেত্র প্রায় ছয় দশক ধরে দেশের শিল্প, বিদ্যুৎ ও গৃহস্থালি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও যেখানে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হতো, বর্তমানে তা কমে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে উত্তোলনের ফলে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের উত্তোলনযোগ্য মজুতের বড় অংশ ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের অভাব দেশের জ্বালানি খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়টি মোকাবিলায় নতুন অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তিতাস-৩১ নম্বর কূপে গভীর অনুসন্ধান চলছে, যেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস মজুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া তিতাস-২৮, ২৯ ও ৩০ নম্বর কূপ খননের কাজও এগিয়ে চলছে।
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) জানিয়েছে, নতুন কূপগুলো সফল হলে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে এবং উৎপাদন হ্রাসের চাপ কিছুটা কমবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের ওপর নির্ভর না করে দেশের সম্ভাবনাময় নতুন এলাকাগুলোতে অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি। পাশাপাশি বাপেক্স ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে অনুসন্ধান কার্যক্রমকে গতিশীল করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।