দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আসিফ-উল আলমকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সক্রিয় সদস্য দাবি করে তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে কলেজ শাখা ছাত্রদল। এ সময় নতুন অধ্যক্ষের যোগদানে বাধা প্রদান ও শিক্ষকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার অভিযোগ উঠলেও তা সরাসরি অস্বীকার করেছেন নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের প্রশাসনিক ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আসিফ-উল আলমকে নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানে এলে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মুস্তাকীম কবিরের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বিরোধিতা করেন। পরে তারা ‘ফ্যাসিবাদের দোসর, স্বাচিপের সক্রিয় সদস্য’ লেখা ব্যানার টাঙিয়ে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যেই দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিদায়ী অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. দিলরুবা জেবা নতুন অধ্যক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
ছাত্রদল নেতাদের দাবি, বিগত আওয়ামী সরকারের রাজনৈতিক অনুসারীকে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল করা মেনে নেওয়া যায় না। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মুস্তাকীম কবির বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতনের পরও স্বাচিপ ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজনকে অধ্যক্ষ বানানো হয়েছে। দ্রুত এ নিয়োগ বাতিল করে নিরপেক্ষ ও বৈষম্যবিরোধী শিক্ষককে নিয়োগ দিতে হবে।”
অন্যদিকে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও যোগদানে বাধার বিষয়টি পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ ডা. সৈয়দ আসিফ-উল আলম। তিনি বলেন, “আমার যোগদান সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। কোনো হট্টগোল বা বাধার ঘটনা ঘটেনি।”
দায়িত্ব গ্রহণ শেষে তিনি কলেজের শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।