দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
দুই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নতুন করে সশস্ত্র হামলার মধ্য দিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ধাক্কায় শান্তিপ্রক্রিয়া ফের অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ইয়েমেনের লোহিত সাগরীয় বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের হামলায় চার নাবিক নিহত হয়েছেন এবং অন্যদিকে ওমান সাগরে নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে মিসরীয় মালিকানাধীন পণ্যবাহী জাহাজ ‘তিহামাহ’—তে সন্দেহভাজন হুতি হামলায় চারজন নাবিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানি ও একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিক। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর লোহিত সাগরে হুতিদের হামলায় এটিই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। হুতিদের নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম সাবার দাবি, জাহাজটি সৌদি আরবের জন্য সামরিক সরঞ্জাম বহন করছিল। তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
একই দিনে ওমান সাগরে পানামার পতাকাবাহী একটি জাহাজে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, বারবার সতর্ক করার পরও জাহাজটি ইরানে আরোপিত নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে দুটি ‘হেলফায়ার’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে জাহাজটির দিক পরিবর্তনের ব্যবস্থা অকার্যকর করে দেওয়া হয়।
এই নতুন হামলা ও পাল্টাহামলার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ফের বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটেছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুশিয়ারি ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র শর্ত না মানলে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ চালু করা হবে না। তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফিরিয়ে দিতে হবে এবং গাজা ও লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।
যুদ্ধের পূর্বে বৈশ্বিক তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ৬টিতে।
ট্রাম্পের ক্ষতিপূরণ দাবি ও নতুন অনিশ্চয়তা এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে নতুন শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেন, বিগত ৫০ বছরের সংঘাত ও হামলায় নিহতদের জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও কিছুদিন দীর্ঘায়িত হতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নাকদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, প্রয়োজন হলে শত্রুর ভূখণ্ডে সরাসরি অভিযান চালানোর সক্ষমতা তৈরি করছে তাদের বাহিনী।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে যৌথ হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা হয়, যা পরবর্তীতে ওমান, কুয়েত, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে ছড়িয়ে পড়ে। সমুদ্রপথে যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় এখন বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে।