দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
সীমিত সামর্থ্যের বাধা টপকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে চার অদম্য মেধাবী। অভাব-অনটনের সংসারে বেড়ে ওঠা এই শিক্ষার্থীদের সাফল্যের গল্প যেমন অনুপ্রেরণার, তেমনি তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বজনদের দুশ্চিন্তাও কম নয়। প্রথম আলোর বিশেষ আয়োজনের পঞ্চম পর্বে তুলে ধরা হলো এমনই এক লড়াকু শিক্ষার্থী রেখা আক্তার ও তার পরিবারের কথা।
রেখার গাইনি চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন
ফরিদপুর সদরের অম্বিকাপুর ইউনিয়নের বিশ্বাসডাঙ্গী গ্রামের অটোরিকশাচালক মো. রেজাউল ও গৃহিণী হালিমা খাতুনের বড় মেয়ে রেখা আক্তার। বাবা-মায়ের পড়ালেখা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত হলেও মেয়ের পড়ালেখায় তারা সবসময় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। আনসার উদ্দীন উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবছর জিপিএ-৫ পাওয়া দুজন শিক্ষার্থীর মধ্যে রেখা অন্যতম। প্রতিদিন ক্লাসের পাশাপাশি নিয়মিত ৫-৬ ঘণ্টা পড়ালেখা করে এই সাফল্য পেয়েছে সে।
গ্রামের অন্তঃসত্ত্বা ও প্রসূতি মায়েদের কষ্ট দেখে ছোটবেলা থেকেই রেখার স্বপ্ন একজন গাইনি চিকিৎসক হওয়া। রেখা জানায়, মা-বাবার অদম্য সহযোগিতা ছাড়া এ সাফল্য সম্ভব ছিল না।
সাফল্যের আনন্দ ছাপিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
মেয়ের সাফল্য ও স্বপ্নের বিষয়ে মা হালিমা বেগম বলেন, ছোটবেলা থেকেই রেখার ইচ্ছা চিকিৎসক হওয়ার, যা পরবর্তীতে পুরো পরিবারের স্বপ্নে পরিণত হয়। সাধ্যমতো কষ্ট করে মেয়ের যত্ন নিলেও এখন কলেজ ও মেডিকেলে পড়ার বিপুল খরচ কীভাবে আসবে, তা নিয়ে গভীর চিন্তায় রয়েছেন তারা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু জাফর শেখ রেখাকে অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী উল্লেখ করে জানান, পরিবারটি আর্থিক সঙ্কটে রয়েছে। রেখার স্বপ্নের চিকিৎসা পড়ালেখা সচল রাখতে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।