মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ার খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
সোমবারের লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলারের বেশি কমে ৮৩ ডলারের ঘরে নেমে আসে। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমে ৮১ ডলারের নিচে অবস্থান করে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে অগ্রগতির খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। ফলে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা কমে যাওয়ায় বাজারে দাম দ্রুত নিম্নমুখী হয়েছে।
তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে অচল থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদক দেশগুলো কত দ্রুত উৎপাদন ও রপ্তানি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারে, তা এখন তেলের বাজারের প্রধান বিবেচ্য বিষয়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার গতি নিয়েও নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলে এবং সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে তেলের দাম আরও কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে চলমান আলোচনা ঘিরে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বাজারে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি বাজারে মূল্য ওঠানামা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।