দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খসড়া সামনে এসেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিতে যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে চুক্তির এসব শর্ত এখনো কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
প্রকাশিত খসড়া অনুযায়ী, চুক্তির অন্যতম প্রধান বিষয় হচ্ছে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা। পাশাপাশি ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উপস্থিতি না বাড়ানোর অঙ্গীকারও রয়েছে।
খসড়ায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং তেল ও জ্বালানি খাতের ওপর থাকা বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে। একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন না করার বিষয়ে ইরান তার পূর্ববর্তী অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করবে।
অর্থনৈতিক পুনর্গঠনেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। খসড়ায় ইরানের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং জব্দকৃত কিছু সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী Shehbaz Sharif জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ সামরিক কার্যক্রম বন্ধে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের বিভিন্ন কারিগরি বিষয় নিয়ে এর আগে কয়েকটি প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
জানা গেছে, চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। আলোচনায় সহায়তা করায় কাতারসহ সংশ্লিষ্ট মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর ভূমিকাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর এবং বাস্তবায়নের ধাপগুলো সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।