বাংলার আকাশ ডেস্ক :
শনিবার (২৭ জুন) নগরের রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা এ সমাবেশে ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
মামুনুল হক বলেন, বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করা ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও কেবল এসবের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব নয়। তিনি দাবি করেন, জনগণ তাদের ভোটাধিকার ও মর্যাদার বিষয়ে আপস করে না।
তিনি আরও বলেন, গণভোটে প্রকাশিত জনমতের যথাযথ বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকার ব্যর্থ হলে জনগণের অধিকার আদায়ে আন্দোলনের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি।
বিএনপির উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে মামুনুল হক বলেন, দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে উপেক্ষা করে এককভাবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করলে তা দলটির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তিনি সংস্কার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গণভোটের ফল বাস্তবায়নের দাবি জানান। তিনি বলেন, দেশের জনদুর্ভোগ দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি সংসদে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার পিছিয়ে রয়েছে। তিনি সংবিধান সংস্কার, বিচারপ্রক্রিয়া, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের মাধ্যমে দেশের জনগণের জন্য কী ধরনের বাস্তব সুফল এসেছে, সে বিষয়ে সরকারকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।
সমাবেশে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাগপা, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন নেতারা বক্তব্য দেন। এছাড়া কয়েকজন সংসদ সদস্য ও স্থানীয় নেতারাও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা গণতান্ত্রিক অধিকার, রাজনৈতিক সংস্কার, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।