বাংলার আকাশ ডেস্ক :
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে কর ও শুল্ক ব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব আসতে পারে। এর মধ্যে ১৫০ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেল ক্রয়ের ক্ষেত্রে ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যানবাহন খাতে কর ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে ব্যক্তি করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাবও রয়েছে, যা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনতে পারে।
প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট ব্যবস্থার আধুনিকায়নের লক্ষ্যে নতুন কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ইনপুট-আউটপুট কোয়েফিশিয়েন্ট নির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে। তবে করপোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনাই বেশি।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে সিগারেটের ফিল্টার তৈরির কাঁচামাল ও নিকোটিন আমদানিতে উচ্চ হারে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। অন্যদিকে হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্টেন্ট (হার্টের রিং) এবং চোখের লেন্সের ওপর বিদ্যমান ভ্যাট প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য করতে কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের আমদানি শুল্ক কমানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট খাতে ভ্যাট ও আয়কর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।
ডিজিটাল অর্থনীতিকে উৎসাহ দিতে ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য কর ও ভ্যাট সুবিধা দেওয়ার বিষয়টিও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক হ্রাসের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলাজাতীয় পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হতে পারে, যা বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রফতানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে নগদ প্রণোদনার ওপর উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিও বিবেচনায় আছে।
ছোট উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক টার্নওভার করমুক্ত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান টার্নওভার কর ব্যবস্থার পরিবর্তে নির্দিষ্ট ভ্যাট কাঠামো চালুর প্রস্তাব এবং প্রতি তিন মাস অন্তর ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ রাখার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি কর সংস্কারের অংশ হিসেবে আগামী কয়েক অর্থবছরে ধাপে ধাপে আয়করের সর্বোচ্চ হার পুনর্নির্ধারণের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রস্তাবিত এসব বিষয় চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হলে দেশের কর ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ভোক্তা খাতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা।