সংবাদটি শোনার পর থেকেই স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান কান্নায় ভেঙে পড়েন। এদিকে তাদের সন্তানরা—তাইবা (৯), তাবাসসুম (৭), সাজিদ (৫) ও সাত মাস বয়সী আয়েশা—মায়ের মরদেহের কাছে বারবার ছুটে যাচ্ছে। মায়ের মুখ একবার দেখার আকুতি জানিয়ে তারা অঝোরে কাঁদছে, যা উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।
নিহত রুনার বাবা আশিকুল হক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মেয়েকে নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন ছিল। তিনি জানান, রুনা তার বড় মেয়ে এবং তার চার সন্তান এখন মাকে হারিয়ে এতিম হয়ে গেল। ছোট্ট শিশুটিকে মায়ের স্নেহ ছাড়া কীভাবে বড় করা হবে—এ চিন্তায় তিনি ভেঙে পড়েছেন।
বুধবার বিকেলে হত্যাকাণ্ডের পর সারারাত শিক্ষিকা রুনার মরদেহ কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হোসেন ইমাম জানান, নিহত শিক্ষিকার গলার ডান পাশে নিচের দিকে গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। গলার রক্তনালী কেটে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে মোট ১৮টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আহত বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমান বর্তমানে শঙ্কামুক্ত আছেন। নিজ গলায় ছুরি চালানোর কারণে তার শ্বাসনালীতে বড় ধরনের ক্ষত হয়েছে। শ্বাস নিতে সুবিধার জন্য আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পুলিশি পাহারায় তার চিকিৎসা চলছে। কথা বলতে না পারলেও ডাকার পর তিনি সাড়া দিচ্ছেন এবং পুলিশ তার লিখিত জবানবন্দিও নিয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল প্রায় ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগের কক্ষে বসে থাকা অবস্থায় কর্মচারী ফজলুর রহমান ছুরিকাঘাত করে শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনাকে হত্যা করে। পরে নিজ গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।