কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় একটি আবাসিক হাফেজিয়া মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ১০ ও ১১ বছর বয়সী দুই শিশুশিক্ষার্থীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দুই শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ওই শিক্ষকের নাম মো. কবির হোসেন। তাঁর বাড়ি জেলার বরুড়া উপজেলায়। আজ সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে চৌদ্দগ্রামের ওই আবাসিক মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন কবির হোসেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের দুই আবাসিক ছাত্রকে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করে আসছিলেন। লোকলজ্জা ও ভয়ে ভুক্তভোগী শিশুরা এতদিন বিষয়টি গোপন রাখলেও গত দুই-তিন দিনে নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে তারা পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি খুলে বলে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী শিশুদের পরিবার, অন্যান্য অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে গতকাল রোববার বিকেলে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে ক্ষুব্ধ জনতা মাদ্রাসা ঘেরাও করেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা-পুলিশের একটি দল রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষক কবির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
ভুক্তভোগী দুই শিশুর বাবা প্রবাসী হওয়ায় একজনের চাচা এবং অন্যজনের দাদা বাদী হয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর আটক শিক্ষককে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন আজ সোমবার জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্ত শিক্ষক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা হয়েছে এবং তাঁকে আদালতে পাঠানো হচ্ছে।