বাংলার আকাশ ডেস্ক :
গাজীপুরের কালীগঞ্জে আড়াই বছরের এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এক কিশোরী থানায় গিয়ে নিজেকে দায়ী দাবি করায় বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
শনিবার দুপুরে কালীগঞ্জ থানায় গিয়ে ইসরাত জাহান শীম (১৪) নামে এক কিশোরী ডিউটি কর্মকর্তার কাছে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা জানায় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত কিশোরী কালীগঞ্জ পৌর এলাকার দেওপাড়া রাজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
থানায় দেওয়া বক্তব্যে কিশোরী দাবি করেছে, ঘটনার সময় শিশুটি বাড়ির বাইরে ছিল। পরে একটি পানিভর্তি বালতির কাছে নিয়ে গিয়ে তাকে ডুবিয়ে রাখা হয়। তবে তার এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
নিহত শিশু আরিশা আক্তার (২) রাজবাড়ী জেলার একটি পরিবারের সন্তান। তার বাবা-মা কর্মসূত্রে কালীগঞ্জে বসবাস করতেন।
শিশুটির মা জানান, ঘটনার সময় তারা ঘরের ভেতরে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর মেয়েকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির বাইরে একটি বালতির ভেতর শিশুটিকে পাওয়া যায়। দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির বাবা বলেন, ঘটনার আগে তার মেয়েকে বাড়ির অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে দেখা গিয়েছিল। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জানান, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কিশোরীর দেওয়া বক্তব্য, ঘটনাস্থলের আলামত এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার প্রকৃত বিবরণ সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।