দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে পাহাড়ি খাসজমির মালিকানা ও দখলকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ‘করলিয়ামুরা এগ্রোফার্ম সমবায় সমিতি লিমিটেড’–এর নিয়ন্ত্রণাধীন জমিতে জবরদখলের চেষ্টা, স্টাফ কোয়ার্টার ভাঙচুর এবং বিপুল পরিমাণ রাবার চারা ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে। এই সীমান্ত কেন্দ্রিক বিরোধ ও ধ্বংসযজ্ঞের পেছনে দুই পক্ষই পরস্পরকে দায়ী করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে, যা গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।
গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঘটনার সত্যতা খতিয়ে দেখতে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল সরেজমিন এলাকা পরিদর্শন করেছে।
সমিতির অভিযোগ ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ: করলিয়ামুরা এগ্রোফার্ম সমবায় সমিতির কর্মকর্তা ও সদস্যদের দাবি, ২০০৭ সাল থেকে প্রায় ১৯ বছর ধরে ২৮০ নম্বর আলীক্ষ্যং মৌজার পাহাড়ি খাসজমিতে ২৫০টি হতদরিদ্র পরিবার বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছের বাগান তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।
অভিযোগ অস্বীকার ও পাল্টা দাবি: তবে সমিতির উত্থাপিত সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত আলী আহমদ গুরুচ। তাঁর পাল্টা দাবি, সমিতির লোকজনই উল্টো তাঁর ব্যক্তিগত জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছে এবং রাবার বাগান বিনষ্ট করেছে। এই ঘটনায় তাঁর প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
আইনি পদক্ষেপ ও পুলিশের তদন্ত: বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য মো. আনোয়ার সাদেক জানান, ২০০৭ সাল থেকে প্রায় ২৫০টি পরিবার ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছে। হঠাৎ করে জবরদখল ও হামলার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) মো. মনজুর আহসান জানান, জমি ও ভাঙচুরের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। আদালত পর্যন্ত গড়ানো এই বিরোধের নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।