দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে জাহাজের এক কর্মী নিহত এবং অপর তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ইরানের হেনগাম দ্বীপ ও কেশম দ্বীপের শিব দেরাজ উপকূলীয় সংলগ্ন এলাকায়। কেশমের গভর্নর হোসেইন আমির তেইমুরি এই আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘মার্কিন সন্ত্রাসী শত্রুর’ হামলা বলে অভিহিত করেছেন। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ধারাবাহিক সামরিক উত্তেজনার এটিই সর্বশেষ রক্তক্ষয়ী ঘটনা।
আইআরজিসির কড়া হুঁশিয়ারি ও ট্রাম্পের দাবিকে চ্যালেঞ্জ: আক্রমণের পরই মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনরত মার্কিন বাহিনীকে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আইআরজিসির নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির দিকে মার্কিন কোনো সামরিক নৌযান এগিয়ে এলে তার কঠোর ও তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া হবে।
একই সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে’— এমন দাবিকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন আইআরজিসির ওই উপ-রাজনৈতিক কমান্ডার। ফার্স নিউজ এজেন্সিকে তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালি যদি সত্যিই আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে সাহস থাকলে এগিয়ে আসুন। অন্তত একটি যুদ্ধজাহাজ ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে নিয়ে এসে দেখান।”
সৌদি আরবকে কেন্দ্র করে তেহরানের অবস্থান: এদিকে হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের সাথে যে আঞ্চলিক সংকট তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে মুখ খুলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “ইরান কোনোভাবেই সৌদি আরবের সাথে যুদ্ধে জড়াতে চায় না।” হুতিদের চলমান সামরিক অপতৎপরতার দায় ইরানের ওপর না চাপানোর ইঙ্গিত দিয়ে পেজেশকিয়ান মন্তব্য করেন, হুতিদের ‘নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও অভ্যন্তরীণ বিষয়াদি’ রয়েছে, যার সাথে তেহরানের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।