দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
হঠাৎ বৃষ্টি নামলেই বদলে যায় শহরের চেনা রূপ। কোথাও তৈরি হয় জলাবদ্ধতা, কোথাও পিচ্ছিল রাস্তাঘাট, আবার কোথাও তৈরি হয় ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তার বা খোলা নালা থেকে বড় কোনো দুর্ঘটনার ঝুঁকি। তার ওপর বজ্রপাত ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকলে সামান্য অসতর্কতাও জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তাই বৃষ্টির এই দিনগুলোতে বাইরে বের হওয়া কিংবা ঘরে থাকার সময় সর্বাবস্থায় কিছু বাড়তি নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
প্রথমত, বজ্রপাতের মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হলে ঘরে অবস্থান করাই সবচেয়ে নিরাপদ। এই সময় জানালা, বারান্দা বা ছাদে যাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। যদি জরুরি প্রয়োজনে বাইরে থাকতে হয়, তবে খোলা মাঠ, উঁচু স্থান কিংবা একা দাঁড়িয়ে থাকা কোনো গাছের নিচে আশ্রয় না নিয়ে দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ কোনো শক্তপোক্ত দালানে ঢুকে পড়তে হবে।
দ্বিতীয়ত, বৃষ্টির দিনে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি থাকে বিদ্যুতের ছেঁড়া তার থেকে। রাস্তায় কোথাও ঝুলন্ত বা ছেঁড়া তার এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি দেখলে তা থেকে নিরাপদ দূরে থাকতে হবে। এমনকি জমে থাকা পানিতে তার পড়ে থাকলেও তা স্পর্শ করা যাবে না। পাশাপাশি ঘরে ভেজা হাতে বৈদ্যুতিক সুইচ কিংবা কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি স্পর্শ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে।
তৃতীয়ত, জলমগ্ন রাস্তায় চলার সময় অত্যন্ত সাবধান হওয়া দরকার, কারণ পানির নিচে কোথায় গর্ত, খোলা নালা কিংবা ভাঙা রাস্তা রয়েছে তা বোঝা যায় না। অপরিচিত বা বেশি পানি জমে থাকা পথ এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। এর সাথে পিচ্ছিল ফুটপাত কিংবা সিঁড়িতে সতর্কভাবে ধীরে ধীরে পা ফেলা উচিত। আর যারা গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালান, তারা যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে রেখে সামনের গাড়ি থেকে পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রেখে ড্রাইভ করুন। অন্যদিকে হেঁটে পথচলার সময় ছাতা ব্যবহারের কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যেতে পারে, তাই রাস্তা পার হওয়ার আগে সব দিক ভালোভাবে দেখে নেওয়া প্রয়োজন।
চতুর্থত, বৃষ্টির দিনে শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে কিছুটা প্রস্তুতি রাখা ভালো। যদি দুর্ঘটনাবশত বৃষ্টিতে ভিজেই যান, তবে ঘরে বা গন্তব্যে পৌঁছে দ্রুত শুকনো পোশাক পরে নিতে হবে। বৃষ্টির দিনে বাইরে যাতায়াতের সময় ব্যাগে অতিরিক্ত জামা, শুকনো মোজা ও ছোট তোয়ালে সাথে রাখা যেতে পারে। ব্যবহৃত রেইনকোট বা ছাতাটি ভালোভাবে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে। এ ছাড়া খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি; কেবল নিরাপদ ও ফোটানো পানি পান করতে হবে এবং খোলা বা অপরিচ্ছন্ন খাবার খাওয়া পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে হবে। শিশু ও বয়স্করা যাতে জলাবদ্ধ এলাকা বা বৈদ্যুতিক উৎসের কাছে না যায়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে।
সর্বশেষ, আবহাওয়ার মেজাজ বুঝে পূর্বপ্রস্তুতি রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। টানা বৃষ্টির আশঙ্কা থাকলে প্রয়োজনীয় জরুরি ওষুধ, শুকনো খাবার, সুপেয় পানি, চার্জযুক্ত টর্চ ও মুঠোফোন গুছিয়ে রাখতে হবে। আবহাওয়া দপ্তরের দেওয়া সতর্কবার্তা প্রতিনিয়ত খেয়াল রাখা দরকার, যাতে পরিস্থিতি প্রতিকূল মনে হলে অনাবশ্যক বাইরে যাওয়া এড়িয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা যায়।