দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে আবারও ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে এ হামলা চালানো হয়। আকস্মিক আক্রমণের পরপরই কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং ইরান থেকে আসা একের পর এক শত্রুতামূলক লক্ষ্যবস্তু ভূপাতিত করতে শুরু করে।
কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীর সাধারণ সদর দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তাঁদের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী অত্যন্ত সফলভাবে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ প্রতিহত করছে। আকাশে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের শব্দে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হলেও ধৈর্য ধরে সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে সেনা কর্তৃপক্ষ। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির তথ্য দেওয়া হয়নি। তেহরানের পক্ষ থেকেও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বড় ধরনের বিমান হামলা চালানোর পরই চরম পাল্টাপাল্টি আঘাত শুরু করে তেহরান। মার্কিন হামলায় ইরানের রাডার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক সামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। এর জবাবেই কুয়েত ছাড়াও বাহরাইন, জর্ডান ও ইরাকে মার্কিন সামরিক ঘাটিতে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পাঠাচ্ছে ইরান। জর্ডান জানিয়েছে, তাদের দিকে ধেয়ে আসা ১৩টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ১০টিই তারা আকাশে ধ্বংস করেছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনাদের প্রধান অন্যতম কেন্দ্র হওয়ায় কুয়েত এখন সরাসরি সংঘাতের মধ্যবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এর আগে বেসামরিক বিমানবন্দরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল দেশটিতে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই সহিংস রূপ নেওয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ ঘিরে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। প্রণালিটি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতিসংঘসহ বিশ্ব সম্প্রদায় উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানালেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের আক্রমণাত্মক অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।