দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
গঙ্গা পানিচুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বাংলাদেশের সাথে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে ভারত সরকারকে তাগিদ দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি এই ঐতিহাসিক চুক্তির মেয়াদ চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। কংগ্রেস সংসদ সদস্য শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন লোকসভার ওই কমিটি তাদের ১৫তম প্রতিবেদনে এই জরুরি সুপারিশ পেশ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চললেও দুই দেশের মধ্যে চুক্তি নবায়ন সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এখনো শুরু হয়নি। তাই সময়ক্ষেপণ না করে ভারতকে দ্রুত নিজেদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নদীর পানিপ্রবাহের তথ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের সাথে প্রয়োজনীয় পরামর্শ সম্পন্ন করে বাংলাদেশের সাথে দ্রুত আলোচনায় বসার ওপর জোর দিয়েছে প্যানেলটি।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশে নির্বাচিত নতুন সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ১৯৭১ সালের যৌথ ইতিহাসের ভিত্তিতে একটি স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে সংসদীয় কমিটি।
পাশাপাশি, বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং তিস্তা নদী প্রকল্পসহ দুই দেশের সাম্প্রতিক বিভিন্ন চুক্তির কথা এতে উল্লেখ করা হয়। কমিটি মনে করে, একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।
এছাড়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে ভারত সরকারের ১২টি প্রস্তাবিত প্রকল্প বাদ দেওয়া এবং চলমান ৮টি কানেক্টিভিটি প্রকল্প দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়। সীমান্তে স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার, সংসদীয় বিনিময় বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়টিকে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রাধিকার দেওয়ারও সুপারিশ করেছে কমিটি।