বাংলার আকাশ ডেস্ক :
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ ও অব্যবস্থাপনার কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত পুনর্গঠনে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাশাপাশি গ্যাস অনুসন্ধান, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দ্বিতীয় তেল শোধনাগার নির্মাণ এবং আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সহযোগিতা জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিদ্যুৎ খাতে বিপুল আর্থিক দায় ও নানা জটিলতা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, ব্যাটারি ও সংশ্লিষ্ট উপকরণের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার এবং এ খাতের আয়ের ওপর ২০৩১ সাল পর্যন্ত কর অবকাশ (ট্যাক্স হলিডে) ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, যা মূলত বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি বায়ু ও বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে আমদানি শুল্ক কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে স্থলভাগ ও বঙ্গোপসাগরে নতুন তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থাকে স্মার্ট গ্রিডে রূপান্তর, দ্বিতীয় তেল শোধনাগার নির্মাণ, নতুন এফএসআরইউ স্থাপন এবং ভুটান, নেপাল ও ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ সহযোগিতা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, বরং একটি আধুনিক, টেকসই ও দক্ষ জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাজেটের অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।