বাংলার আকাশ ডেস্ক :
দেশে শিশু নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অধিকারকর্মীরা। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ১৬৬ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। গড়ে প্রতিদিন প্রায় তিনটি শিশু এমন ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
শিশুদের নিরাপদ শৈশব বারবার হুমকির মুখে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিচিত ব্যক্তি, আত্মীয়, প্রতিবেশী কিংবা বিশ্বাসযোগ্য মানুষের কাছ থেকেই শিশুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত দেশে মোট ২৫০ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬৬ জনই কন্যাশিশু। একই সময়ে ৩১ শিশু দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১২ শিশুকে এবং ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে ৪৩ শিশুর ক্ষেত্রে। এছাড়া বিভিন্ন কারণে হত্যার শিকার হয়েছে আরও ৬৩ শিশু।
শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, শুধু ঘটনার পর ব্যবস্থা নিলেই হবে না, অপরাধ প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
শিশু সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে অপরাধ প্রবণতা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে শিশুদের সুরক্ষায় পরিবারকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু নির্যাতনের অধিকাংশ ঘটনায় অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর পরিচিত ব্যক্তি হওয়ায় শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি যথেষ্ট নয়। পরিবারে সচেতনতা বৃদ্ধি, নৈতিক শিক্ষা এবং শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলাও জরুরি।
অধিকারকর্মীদের মতে, শিশুদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে স্কুল, পরিবার ও সমাজে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়াতে হবে। পাশাপাশি নারী ও শিশুর প্রতি সম্মানজনক আচরণের মূল্যবোধ ছোটবেলা থেকেই গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।