বাংলার আকাশ ডেস্ক :
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির পক্ষে শুনানির জন্য স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর উইংকে একজন ফৌজদারি বিশেষজ্ঞ আইনজীবীকে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের জেল আপিল শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় পেপারবুক ইতোমধ্যে বিজি প্রেস থেকে প্রস্তুত হয়ে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে। বর্তমানে যাচাই-বাছাই শেষে যেকোনো সময় হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে চূড়ান্ত শুনানি শুরু হতে পারে।
২০২৪ সালে পল্লবীতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে মামলাটি বিচার শেষে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার।
গত ৭ জুন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সোহেল রানাকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অর্থদণ্ড ভিকটিমের আইনগত উত্তরাধিকারীর অনুকূলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালত আরও বলেন, জরিমানা অনাদায়ে আসামিদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
রায়ে উল্লেখ করা হয়, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং ঘটনাস্থলে গুরুতর জখমের আলামত রয়েছে। সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও পরবর্তী সময়ে তা প্রত্যাহার না করাকে আদালত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করে।
এছাড়া স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে স্বামীকে সহযোগিতা করার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে হাইকোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন হওয়ায় ডেথ রেফারেন্স মামলাটি এখন বিচারাধীন। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ায় শিগগিরই হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে এর শুনানি শুরু হবে বলে জানা গেছে।