বাংলার আকাশ ডেস্ক :
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে আবারও এক নারীকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) দ্রুত হস্তক্ষেপে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ১১টার দিকে নওগাঁ ১৬ বিজিবির রোকনপুর বিওপির আওতাধীন ২২৫/৩-আর সীমান্ত পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৮৮ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের আরকে ওয়াদা ক্যাম্পের সদস্যরা এক মাঝির সহায়তায় নৌকাযোগে ওই নারীকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত ওই নারীকে আটক করে বিজিবিকে খবর দেয়। পরে বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করে এবং ওই নারীকে শূন্যরেখা হয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১১ দিনের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে অন্তত তিন দফায় মোট ৪৪ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিবারই স্থানীয়দের সহযোগিতা ও বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে এসব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
এর আগে গত ১৩ জুন রাতে একই সীমান্ত দিয়ে ১৫ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। পরে বিজিবির বাধার মুখে তাদের পুনরায় ভারতে ফেরত নেওয়া হয়।
এরও আগে ৪ জুন ভোরে বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানা যায়। সে সময়ও বিজিবির অবস্থানের কারণে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করে পরে ফেরত যায়।
ক্রমাগত পুশইনের চেষ্টা বেড়ে যাওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রায় ১৮৪ কিলোমিটার সীমান্তে নজরদারি ও টহল বাড়িয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সীমান্ত সুরক্ষায় স্থল ও নৌপথে টহলের পাশাপাশি বাইনোকুলার, ড্রোন ক্যামেরা এবং নাইট ভিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের মধ্যেও বাড়তি সতর্কতা লক্ষ্য করা গেছে।
স্থানীয়দের ধারণা, কাঁটাতারবিহীন সীমান্ত এলাকার কিছু অংশ ব্যবহার করে এ ধরনের পুশইনের চেষ্টা বারবার করা হচ্ছে, যা বর্তমানে কঠোর নজরদারির কারণে প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে।