বাংলার আকাশ ডেস্ক :
রায়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পূর্বে সমান্তরাল বিচার কার্যক্রম ও পরস্পরবিরোধী রায় এড়াতে যে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল, ট্রাইব্যুনালে বিচার সম্পন্ন হওয়ায় তা আর কার্যকর নয়। এখন সিএমএম আদালত আইন অনুযায়ী মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারবে।
রায়ের একটি অনুলিপি রংপুরের মহানগর দায়রা জজ এবং মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। ঘটনার পর তাজহাট থানায় দুটি পৃথক মামলা হয়।
প্রথম মামলাটি করেন তৎকালীন এসআই বিভূতি ভূষণ রায়। পরে নিহতের ভাই রমজান আলী আরেকটি মামলা করেন, যেখানে পুলিশ, প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কয়েকজনসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
পরবর্তীতে মামলাটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে তদন্তের পর বিচার প্রক্রিয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তর করা হয়।
২০২৫ সালে তদন্ত প্রতিবেদন জমা ও অভিযোগ গঠনের পর বিচার শেষে ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল ৩০ জন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ঘোষণা করে। এর মধ্যে দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড, কয়েকজনকে যাবজ্জীবন এবং বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ে বলা হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্তরা ৩০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করতে পারবেন।
পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর ট্রাইব্যুনাল পূর্বের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে জানায়, এখন থেকে রংপুরের আদালতে থাকা দুই মামলার বিচারিক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলবে। এতে দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা বিচার প্রক্রিয়া নতুন গতি পাবে।