বাংলার আকাশ ডেস্ক :
ঝালকাঠি জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। আধুনিক ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও ওষুধ থাকলেও জনবলের অভাবে সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের অনুমোদিত ৬৮টি পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। বাকি ৩৮টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদও বর্তমানে খালি থাকায় প্রশাসনিক ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে।
জেলার চারটি উপজেলার জন্য অনুমোদিত চারজন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র দুইজন। এছাড়া প্রাণিসম্পদ সহকারী ও ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট পদেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য শূন্যতা। ফলে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ কার্যালয় এবং ভেটেরিনারি হাসপাতালগুলোতে সীমিত জনবল দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
জনবল ঘাটতির কারণে খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ প্রদান, রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম, পশুর চিকিৎসা এবং মাঠপর্যায়ের তদারকি ব্যাহত হচ্ছে। এতে গবাদিপশু পালনকারীরা প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
খামারিদের দাবি, সরকারি উদ্যোগে আধুনিক ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকলেও সেগুলোর সুবিধা তারা খুব কমই পাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে পশু অসুস্থ হলে স্থানীয় বেসরকারি চিকিৎসকদের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সরকারি পশু চিকিৎসকদের মাঠপর্যায়ে উপস্থিতি কম থাকায় সাধারণ খামারি ও গৃহপালিত পশুর মালিকরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় জানিয়েছে, জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শূন্য পদগুলো পূরণের চেষ্টা চলছে। সীমিত জনবল নিয়েও সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
খামারিরা দ্রুত শূন্য পদ পূরণ এবং ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালগুলোকে কার্যকরভাবে মাঠপর্যায়ে কাজে লাগানোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে প্রাণিসম্পদ খাতের সেবা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর হয়।