বাংলার আকাশ ডেস্ক :
দেশের হাওর, উপকূল ও উত্তরাঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আরও বেশি প্রান্তিকতার শিকার হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, দুর্যোগে কর্মহীনতা ও আয়হীনতা বাড়ায় এসব মানুষ শহরমুখী হলেও সেখানে তারা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার কার্যকারিতা নির্ভর করবে প্রকৃত দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী কতটা সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে তার ওপর। দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে এ খাতে বরাদ্দ আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলেও তারা মত দিয়েছেন।
চলতি অর্থবছরে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ ১৪ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরে ৩৫ হাজার ৭০৮ কোটি টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণের মতো কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলের মানুষকে লক্ষ্য করে মৌসুমি ও বাস্তবভিত্তিক সহায়তা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঠিক উপকারভোগী নির্ধারণ না হলে বরাদ্দের কার্যকারিতা কমে যাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত দরিদ্রদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে না, ফলে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দের একটি বড় অংশ যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদনমুখী খাতে ব্যয় বাড়ানো ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমানো সম্ভব নয়।