বাংলার আকাশ ডেস্ক :
বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই পদ্মা নদীর ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘিরপাড় ইউনিয়নের কান্দারবাড়ি এলাকার বাসিন্দারা। গত বছরের ভাঙনের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই চলতি বছর নদীগর্ভে নতুন করে আরও কিছু এলাকা বিলীন হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এ অবস্থায় দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে পদ্মা নদীর তীরে মানববন্ধন করেছেন শত শত এলাকাবাসী। তারা ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপের পাশাপাশি কান্দারবাড়ি এলাকায় একটি সেতু নির্মাণেরও দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা জানান, পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে বসতভিটা, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতি বর্ষায় নদীভাঙনের আশঙ্কায় দিন কাটাতে হচ্ছে নদীপাড়ের মানুষদের। তারা বলেন, স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় শিক্ষক লিয়াকত হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন সমস্যা চললেও এখনো কার্যকর সমাধান হয়নি। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হলে কান্দারবাড়ি এলাকার অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।
স্থানীয় রাজনীতিক শামীম খান বলেন, নদীভাঙন শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়, এটি মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত। তাই স্থায়ী বাঁধের পাশাপাশি যোগাযোগ সহজ করতে একটি সেতু নির্মাণও জরুরি।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর গতিপথ ও তলদেশ পরিবর্তিত হচ্ছে, যা ভাঙনকে আরও তীব্র করছে। তারা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি জানান।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, লৌহজং থেকে দিঘিরপাড় পর্যন্ত পদ্মার বাম তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে এবং এটি চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে কান্দারবাড়ি এলাকায় আলাদা কোনো কাজ শুরুর আগে নদীর গতিপ্রকৃতি ও সম্ভাব্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে পদ্মা সেতুর বাম তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে ভাঙন নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় প্রকল্পের আওতা আরও সম্প্রসারিত করা হয়। বর্তমানে প্রায় ৫২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬.৮৭ কিলোমিটার এলাকায় কাজ চলছে, যার অগ্রগতি প্রায় ৯০ শতাংশ।
তবে বর্ষা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কান্দারবাড়ির বাসিন্দাদের উদ্বেগও বাড়ছে। তাদের দাবি, টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ ছাড়া পদ্মার ভাঙন থেকে এই জনপদ রক্ষা করা সম্ভব নয়।