দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
আধুনিক যুগে তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেট আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। তবে এই প্রযুক্তির অগণিত ইতিবাচক সুবিধার পাশাপাশি শিশু-কিশোরসহ সাধারণ ব্যবহারকারীদের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অশ্লীল কনটেন্টের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ডিভাইসগুলোতে সঠিক ডিজিটাল ফিল্টারিং ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মোবাইল ফোনে ক্ষতিকর বা অশ্লীল কনটেন্ট শতভাগ বন্ধ করার কোনো একক জাদুকরী প্রযুক্তি নেই। তবে স্মার্টফোনের নিজস্ব নিরাপত্তা সেটিংস, অভিভাবকীয় নজরদারি (Parental Control), সেফ সার্চ এবং সচেতন ব্রাউজিংয়ের মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
নিচে মোবাইল ও ইন্টারনেটে অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট এড়ানোর কয়েকটি মূল দিক তুলে ধরা হলো:
সার্চ ইঞ্জিনে যেকোনো তথ্য অনুসন্ধানের সময় অনেক সময় অসাবধানতাবশত প্রাপ্তবয়স্কদের বা অনাকাঙ্ক্ষিত উপাদান চলে আসতে পারে। এটি রোধে গুগলের SafeSearch ফিচারটি চালু রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই ফিচারটি সক্রিয় থাকলে গুগল অনুসন্ধান থেকে অধিকাংশ সংবেদনশীল বা অশ্লীল তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিল্টার হয়ে যায়।
পরিবারের ছোটদের অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট থেকে দূরে রাখতে এবং তারা অনলাইনে কী করছে তা তদারকি করতে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য Google Family Link এবং আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য Screen Time ফিচার অত্যন্ত কার্যকরী। এসব ফিচারের সাহায্যে অ্যাপ ডাউনলোড নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশাধিকার বন্ধ এবং স্ক্রিন টাইম বা ফোন ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া যায়।
ক্ষতিকর ও বয়স্কদের ওয়েবসাইট বন্ধ করতে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সিকিউরিটি অ্যাপ ও ফিল্টারিং সার্ভিস ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া রাউটার বা ডিভাইসে CleanBrowsing বা AdGuard-এর মতো Safe DNS সেটআপ করলে পুরো নেটওয়ার্ক স্তর থেকেই ক্ষতিকর ওয়েবসাইটের প্রবেশাধিকার ব্লক করা সম্ভব হয়।
অনেক সময় সোশ্যাল মিডিয়া, মেসেঞ্জার বা ইমেইলে আকর্ষণীয় বা লোভনীয় শিরোনামের লিংক আসে। এসব লিংকে ক্লিক করলে অনাকাঙ্ক্ষিত ওয়েবসাইটে রিডাইরেক্ট হওয়া ছাড়াও ফোনে ভাইরাস কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকি থাকে। তাই অপরিচিত উৎস থেকে আসা লিংকে ক্লিক এবং অবিশ্বস্ত অ্যাপ ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
প্রযুক্তিগত বাধানিষেধের চেয়ে বড় বিষয় হলো মানসিক সচেতনতা। শিশুদের সাথে বন্ধুসুলভ আলোচনা করে ইন্টারনেটের কুফল ও সুফল সম্পর্কে ধারণা দেওয়া প্রয়োজন। একইসাথে তারা যেন অতিরিক্ত সময় একা ফোন ব্যবহার না করে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে বই পড়া, মাঠের খেলাধুলা এবং পরিবারকে সময় দেওয়ার মতো সুস্থ ধারার সংস্কৃতিতে উৎসাহিত করা জরুরি।