বাংলার আকাশ ডেস্ক :
ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে রুদ্ধশ্বাস এক ম্যাচে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ-১৬ নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া আফ্রিকান দলটি দুইবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরেছিল, তবে অতিরিক্ত সময়ে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর গোলে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। তবে প্রত্যাশার চেয়েও দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলে কেপ ভার্দে, যারা পুরো ম্যাচজুড়েই বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে।
ম্যাচের ২৯তম মিনিটে লিওনেল মেসির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। লিসান্দ্রো মার্টিনেজের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে চিপ শটে জালে বল পাঠান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এটি ছিল বিশ্বকাপে তার ক্যারিয়ারের ২০তম গোল এবং চলমান আসরে সপ্তম, যা তাকে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার অবস্থানে রাখে।
এই ম্যাচে আরও একটি অনন্য রেকর্ড গড়েন মেসি। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার ৩০তম ম্যাচ, যা প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। পাশাপাশি ২৭তমবারের মতো শুরুর একাদশে মাঠে নেমেও নতুন নজির স্থাপন করেন তিনি।
প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা আর্জেন্টিনাকে দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯তম মিনিটে সমতায় ফেরায় কেপ ভার্দে। রায়ান মেন্ডেসের পাস থেকে ডেরয় দুয়ার্তে দারুণ এক শটে গোল করে ম্যাচে সমতা আনেন।
এরপর আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ চালালেও কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা কয়েকটি অসাধারণ সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। ফলে নির্ধারিত সময় ১-১ সমতায় শেষ হলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই আবার এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কর্নার থেকে পাওয়া বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ চমৎকার বাঁকানো শটে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
তবে লড়াই ছাড়েনি কেপ ভার্দে। কিছুক্ষণ পরই বাঁ প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে সমতা ফেরান সিডনি কাবরাল। ম্যাচে আবারও ফিরে আসে উত্তেজনা।
শেষ পর্যন্ত ১১১তম মিনিটে কর্নার থেকে লিওনেল মেসির নেওয়া বল উড়ে এসে পৌঁছায় ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর কাছে। সবার ওপরে উঠে শক্তিশালী হেডে জাল খুঁজে নেন এই ডিফেন্ডার। তার ওই গোলই আর্জেন্টিনাকে ৩-২ ব্যবধানে জয় এনে দেয় এবং শেষ-১৬ নিশ্চিত করে।
হারলেও সাহসী পারফরম্যান্সে ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে কেপ ভার্দে। অন্যদিকে কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।