দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
ভয়াবহ বন্যায় চীনের সঙ্গে নেপালের অন্যতম প্রধান ‘অল ওয়েদার’ বাণিজ্যপথ ‘রাসুয়া কেরুং’ মারাত্মকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। ভোতেকোশি করিডরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘চীন-নেপাল মৈত্রী সেতু’ ভেঙে পড়ায় সীমান্ত দিয়ে দ্বিপক্ষীয় পণ্য পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
কাঠমান্ডু পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালে সাম্প্রতিক বন্যায় এ পর্যন্ত ৭৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন দুই হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে রাসুয়াগাধি সীমান্ত এলাকার সার্বিক যোগাযোগব্যবস্থা ও সীমান্ত বাণিজ্য স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
২০১৪ সালের ডিসেম্বরে চালুর পর থেকে এই পথটি নেপালের অর্থনৈতিক সরবরাহের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাধারণত চীন থেকে তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, গাড়ি ও বিভিন্ন ভারী যন্ত্রপাতি এই পথেই রাজধানী কাঠমান্ডুতে পৌঁছাত। ব্যস্ত সময়ে এ সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০টি পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করত। বিশেষ করে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে নেপালের সর্ববৃহৎ দুটি উৎসব ‘দশাইন’ ও ‘তিহার’কে সামনে রেখে বাণিজ্য তুঙ্গে থাকে। ফলে উৎসবের ঠিক মুখে এই ধ্বংসযজ্ঞ নেপালি ব্যবসায়ীদের চরম অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নেপাল সরকার বিকল্প হিসেবে ‘তাতোপানি’ ও ‘কোরালা’ সীমান্তপথ ব্যবহারের চিন্তাভাবনা করছে। তবে সেখানেও রয়েছে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ:
উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে নেপাল চীন থেকে ৪২৫ দশমিক ২৪ বিলিয়ন রুপির পণ্য আমদানি করলেও বিপরীতে রপ্তানি করেছে মাত্র ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন রুপির পণ্য। বিশাল এই বাণিজ্যিক ঘাটতির মধ্যে প্রধান রুটটি ধ্বংস হওয়ায় নেপালের সামগ্রিক সরবরাহব্যবস্থায় ভয়াবহ সংকট তৈরির আশঙ্কা করা হচ্ছে।