দৈনিক বাংলার আকাশ ডেস্ক:
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান জীবন বীমা করপোরেশন (জেবিসি) তাদের সহযোগী বিমা বা ‘রাইডার’ সুবিধার ক্ষেত্রে কঠোর ও শৃঙ্খলাবদ্ধ নিয়মমালা জারি করেছে। এখন থেকে আগে থেকে জটিল বা গুরুতর রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত জনবল এবং তথ্য গোপনকারী গ্রাহকেরা জেবিসির এই অতিরিক্ত বিমা-সুবিধা পাবেন না।
সম্প্রতি সংস্থাটির পরিচালনা ও শাখা ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনার পর এই সংক্রান্ত মোট ১৪টি নির্দেশিকা জারি করা হয়। চট্টগ্রাম, ঢাকা সহ দেশের সকল আঞ্চলিক, করপোরেট, বিক্রয় ও শাখা কার্যালয়ে এ নির্দেশনাবলী অবিলম্বে বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
রাইডার বা সহযোগী বিমা সুবিধা আসলে কী?
মূল বিমা পলিসির সুরক্ষার পরিধি বাড়াতে অতিরিক্ত প্রিমিয়ামের বিনিময়ে যে বাড়তি সুবিধাদি যুক্ত করা হয়, তাকে সহযোগী বিমা বা ‘রাইডার’ বলা হয়। যেমন—কোনো গ্রাহক ২০ লাখ টাকার মূল জীবনবিমার সাথে ১০ লাখ টাকার দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু রাইডার যুক্ত করলে, দুর্ঘটনায় মৃত্যু ঘটলে তার মনোনীত ব্যক্তি সর্বমোট ৩০ লাখ টাকা দাবি করতে পারেন। জেবিসি মূল পলিসির পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা, গুরুতর ব্যাধি বিমা (Major Illnesses) এবং প্রিমিয়াম মওকুফ (Waiver of Premium) সুবিধা দিয়ে থাকে।
নতুন নীতিমালায় স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, প্রিমিয়াম গ্রহণ বা বিমা করার সময় গ্রাহককে তার পূর্বের রোগ, চিকিৎসার বিবরণ ও শারীরিক অবস্থা সঠিক ও সত্যভাবে প্রকাশ করতে হবে। যদি কোনো গ্রাহক ভুল তথ্য দেন বা জেনেশুনে তথ্য গোপন করেন, তবে পরবর্তীতে তার বিমা দাবি সরাসরি বাতিল ও প্রত্যাখ্যান করা হবে। পাশাপাশি আইনি ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্তভাবে, মূল পলিসি কোনো কারণে বাতিল, সারেন্ডার বা ল্যাপস হয়ে গেলে তার সাথে যুক্ত রাইডার সুবিধাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
জেবিসির দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, এতদিন ধরে অনেক শাখা অফিস প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ঝুঁকি মূল্যায়ন ছাড়াই রাইডার সুবিধা দিচ্ছিল। ফলে অনেক গ্রাহক আগের কঠিন রোগের তথ্য গোপন করে এই সুবিধা নিচ্ছিলেন এবং দাবি নিষ্পত্তির সময় নানা আইনি জটিলতা ও বিরোধের সৃষ্টি হচ্ছিল। দাবি নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা, ঝুঁকি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা এবং অনিয়ম দূর করার লক্ষ্যেই এই যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।