বাংলার আকাশ ডেস্ক :
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শনিবার (৪ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্স ও আশপাশের এলাকায় ভোর থেকেই লাখো মানুষের সমাগমে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই কমপ্লেক্সের প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হয়। এরপর অপেক্ষমাণ শোকাহত মানুষ ধীরে ধীরে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো প্রাঙ্গণ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
রাষ্ট্রীয় এই আয়োজন ঘিরে রাজধানীজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ও বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত অনেককে কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে দেখা যায়। একই সঙ্গে মেট্রো স্টেশনগুলোতেও ভোর থেকে দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করেন হাজারো মানুষ।
ইরানের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে আগত মানুষের উপস্থিতিতে রাজধানীতে শোকের আবহ বিরাজ করছে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আয়োজিত এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের অসংখ্য প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।
৮৬ বছর বয়সে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। পরবর্তী সময়ে আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে নির্ধারিত সময়ে দাফন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। প্রায় চার মাস পর যুদ্ধবিরতির সুযোগে রাষ্ট্রীয়ভাবে জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হচ্ছে। সাত দিনব্যাপী শোক ও দাফন কর্মসূচি শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় তথ্য অনুযায়ী, জানাজা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ইরাক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া ও তুরস্কের প্রতিনিধিদল রয়েছে। এছাড়া সৌদি আরব, কাতার, ওমান, ইয়েমেন ও মিসরসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন।
রাশিয়া, চীন, বেলারুশ, জর্জিয়া, সার্বিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, বুরকিনা ফাসো, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, নামিবিয়া ও নিকারাগুয়ার প্রতিনিধিদলও অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছে।
এ ছাড়া সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও), ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং ডেভেলপিং-৮ (ডি-৮)-এর প্রতিনিধিদের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারাও খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে উপস্থিত রয়েছেন।